রাজধানী ঢাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর এখন রুট দুটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।
প্রস্তাবিত রুটগুলো হলো- পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)।

এ ছাড়া প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত ১০টি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ বা ১১টি স্টেশনসহ মনোরেল-১৩ এর কথা উল্লেখ রয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দক্ষ পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের চলাচল সহজ করবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যাত্রী চাহিদা বেশি থাকে তাদের চলাচল আরও সহজ করবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনায় থাকা মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে মেট্রোরেলের যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে যাতায়াত সহজ করতে এসব সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শকরা প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন। এখন বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত দুটি রুট নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, সম্ভাব্য সুফল ও আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ডিটিসিএ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলের মডেল ভিত্তিক সমীক্ষা চালিয়ে যাত্রী চাহিদা নিরূপণ করেছে। পরে বিশ্লেষণের জন্য এসব তথ্য বুয়েটের পরামর্শকদের দেওয়া হয় বলে জানান মশিউর রহমান।