বিশ্বজুড়ে এখন চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনা। এই উন্মাদনার হাওয়া লেগেছে রাজনীতির মাঠেও। তবে এবার খেলার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং গ্যালারিতে বসে প্রেমিকার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
নিজের দেশের ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচ গ্যালারিতে বসে না দেখে, প্রেমিকার আবদার মেটাতে আমেরিকার খেলা দেখতে যাওয়ায় নিজ দেশের নাগরিকদের কাছেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রুডো। আর তাঁর সেই চর্চিত প্রেমিকাটি কে জানেন? বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ সংগীতশিল্পী কেটি পেরি!

একপাশে দেশের ইতিহাস, অন্যপাশে প্রেমিকার মন!
ঘটনাটি ঘটেছে চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচ চলাকালীন। একদিকে ফুটবল বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল কানাডা। ম্যাচটিতে ১-১ গোলে ড্র করে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করার এক গৌরবময় রেকর্ড বা ইতিহাস গড়ে কানাডিয়ানরা।
কিন্তু দেশের এমন এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় মুহূর্তে গ্যালারিতে দেখা মেলেনি ট্রুডোর। ঠিক একই সময়ে অন্য এক স্টেডিয়ামে চলছিল যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচ। সেখানে মার্কিন মুলুকের গ্যালারিতে কেটি পেরির সঙ্গে বেশ খোশমেজাজে খেলা উপভোগ করতে দেখা যায় জাস্টিন ট্রুডোকে। বর্তমানে পপ তারকা কেটি পেরিকে ট্রুডোর নতুন প্রেমিকা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজের দেশের খেলা এবং ইতিহাস গড়ার মুহূর্তকে এভাবে ফাঁকি দিয়ে মার্কিন দলের খেলা দেখতে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কানাডার নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুডোকে ধুয়ে দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
নেটিজেনদের সমালোচনার মূল দিকগুলো:
- দেশপ্রেম বনাম প্রেম: একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে দেশের খেলা বাদ দিয়ে অন্য দেশের গ্যালারিতে প্রেমিকার সঙ্গে সময় কাটানোকে অনেকেই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
- ভুল বার্তা: নেটিজেনদের একাংশের মতে, এই ঘটনা কানাডার ফুটবলার ও সমর্থকদের আবেগকে চরমভাবে আঘাত করেছে।
ট্রুডোর পাল্টা জবাব: ‘প্রেমিক হিসেবেও তো দায়িত্ব আছে!’
সমালোচনার তীর যখন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছিল, তখন চুপ করে থাকেননি জাস্টিন ট্রুডোও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে ট্রুডো তাঁর এই অবস্থানের পেছনের কারণ স্পষ্ট করেছেন।
জাস্টিন ট্রুডো লিখেছেন: “কখনো কখনো একজন প্রেমিক হিসেবেও তো দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে দিনশেষে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে আমি কাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করছি, তা কিন্তু সবাই খুব ভালো করেই জানে।”
ট্রুডোর এই রসাত্মক জবাবের পর সমালোচনা যেন আরও একটু উস্কে গেছে। অনেকেই বলছেন, ট্রুডো বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতি আর দেশপ্রেম একদিকে, আর পপ তারকা প্রেমিকার মন রক্ষা করা সব কিছুর ঊর্ধ্বে!
উপসংহার: ট্রুডো কি পারবেন মন জয় করতে?
ক্ষমতাধর বা সেলিব্রিটিদের এমন সব ‘লাভ স্টোরি’ আর গসিপ আমাদের বিনোদনের দারুণ খোরাক জোগায়। ট্রুডো প্রেমিক হিসেবে কেটি পেরির মন হয়তো জয় করে নিয়েছেন, কিন্তু দেশের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মন যে তিনি এই যাত্রায় ভেঙেছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, কানাডা দল তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ট্রুডোকে গ্যালারিতে পায় কি না!