ইউরোপজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে জন্মহার, যা দীর্ঘকাল ধরেই মহাদেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ। এই জনসংখ্যাগত সংকট মোকাবিলায় এবার এক অভিনব ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ফ্রান্স। দেশের জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ১লা জুলাই, ২০২৬ থেকে সন্তান জন্মদানের পর মা ও বাবা দুজনের জন্যই নতুন করে বাড়তি ছুটির ব্যবস্থা চালু করেছে ফরাসি সরকার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই বাড়তি ছুটির দিনগুলোতে মা ও বাবা উভয়েই সরকারি নিয়মে বেতন পাবেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যমান ফরাসি আইনে কী পরিবর্তন এলো?
ফ্রান্সের পূর্ববর্তী আইন অনুযায়ী, প্রথম সন্তানের জন্মের পর মায়েরা প্রায় চার মাস পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি উপভোগ করতে পারতেন। অন্যদিকে, সন্তানের জন্মের পর বাবারা পেতেন মাত্র ২৮ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি।
১লা জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইন অনুসারে, বিদ্যমান এই ছুটির মেয়াদ তো থাকছেই, তার সাথে যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা। এখন থেকে মা ও বাবা আলোচনার ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে বাড়তি আরও এক বা দুই মাসের ছুটি ভাগ করে নিতে পারবেন। অর্থাৎ, পরিবারের সুবিধাজনক সময়ে মা অথবা বাবা এই অতিরিক্ত ছুটি কাটাতে পারবেন।
ছুটির দিনগুলোতে বেতনের হিসেব
নতুন এই সংস্কারে ছুটির পাশাপাশি আর্থিক সুরক্ষাকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী:
- প্রথম মাস: অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে অভিভাবক তাঁর মূল বেতনের ৭০ শতাংশ পাবেন।
- দ্বিতীয় মাস: যদি দ্বিতীয় মাসেও ছুটি বাড়ানো হয়, তবে সেই মাসে বেতনের ৬০ শতাংশ দেওয়া হবে।
এই নতুন নিয়মটি চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া সমস্ত শিশুর অভিভাবকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া সামাজিক সমতা বজায় রাখতে কেবল জৈবিক মা-বাবাই নন, যারা শিশু দত্তক নিয়েছেন, সেই সমস্ত অভিভাবকরাও সমপরিমাণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
প্রেসিডেন্ট মাখোঁর জনসংখ্যা নীতি ও ইউরোপের সংকট
ফ্রান্সসহ সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) গত কয়েক দশক ধরে জন্মহার ক্রমাগত নিম্নমুখী। কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার এই সংকট কাটাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বেশ কিছুদিন ধরেই নানা পরিকল্পনা করছেন।
এটিই তাঁর প্রথম উদ্যোগ নয়; এর আগে ২০২৪ সালেও তিনি ফ্রান্সের জন্মহার বাড়াতে এবং জনসংখ্যাগত কাঠামো পুনর্গঠন করতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনারই একটি বড় এবং বাস্তবমুখী অংশ হিসেবে এই বাড়তি ছুটির আইনটি বুধবার থেকে কার্যকর করা হলো।