বিশ্বখ্যাত ধনকুবের এবং মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস কি তবে কোনো অন্ধকার জালে জড়িয়ে পড়েছিলেন? দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন তার গভীর অনুতাপ। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্ক নিয়ে যখন নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, তখন বিল গেটস সরাসরি স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই ছিল তার জীবনের এক বড় ভুল। কিন্তু তার এই অনুশোচনা কি যথেষ্ট? নাকি পর্দার আড়ালে রয়ে গেছে আরও অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন?
এপস্টেইন ডসিয়ার: ৩০ লাখ পাতার বিস্ফোরক নথি
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ পাতার নথি বা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই নথিগুলোতে কেবল সাধারণ যোগাযোগ নয়, বরং অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই নথির একটি খসড়া ই-মেইলে এপস্টেইন দাবি করেছেন যে, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

অভিযোগ ও বিল গেটসের অবস্থান
অস্ট্রেলিয়ার ‘নাইন নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস এই ই-মেইলটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি: তিনি শুধু ২০১১ সাল থেকে পরবর্তী তিন বছরে কয়েকবার ডিনারে অংশ নিয়েছেন। এপস্টেইনের সেই কুখ্যাত ব্যক্তিগত দ্বীপে তিনি কখনোই যাননি। মাদক বা কোনো অনৈতিক সম্পর্কে সহায়তার অভিযোগগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
মেলিন্ডার ক্ষোভ: ভাঙা সংসারের নেপথ্যে কি এপস্টেইন?
বিল গেটসের এই অনুতাপের মধ্যেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। ২০২১ সালে তাদের দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। মেলিন্ডা জানিয়েছেন, এই নতুন নথিগুলো তার জীবনের ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ স্মৃতিগুলো পুনরায় জাগিয়ে তুলেছে।মেলিন্ডার ভাষ্যমতে, এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের মেলামেশা নিয়ে তার মনে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই দায়ভার শুধু বিল গেটসের এবং তাকেই সব জবাবদিহি করতে হবে।
কেন বারবার ফিরে আসছে এপস্টেইন প্রসঙ্গ?
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে আত্মহত্যা করলেও তার রেখে যাওয়া রহস্যের সমাধান হয়নি। বিল গেটসের মুখপাত্রদের মতে, এপস্টেইন একজন সুচতুর ব্যক্তি ছিলেন যিনি বড় বড় মানুষের নাম ব্যবহার করে নিজেকে প্রভাবশালী প্রমাণ করতে চাইতেন। বিল গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে না পেরে তিনি তাকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল বা হেনস্তা করার চেষ্টা করেছিলেন বলে মাইক্রোসফট পক্ষের দাবি।
বিল গেটসের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
বিল গেটস দাবি করেছেন, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কেবল জনহিতকর কাজের জন্য। এপস্টেইন অনেক ধনী ব্যক্তিদের চিনতেন যারা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে অর্থ দান করতে পারতেন। কিন্তু গেটস স্বীকার করেছেন, “পেছনে ফিরে তাকালে দেখি, সেগুলো আসলে কোনো কাজেই আসেনি।”
গেটস কি পারবেন তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে
বিতর্ক আর ব্যক্তিগত জীবনের টানাটানি সরিয়ে রাখলেও, বিল গেটসের মতো একজন ব্যক্তিত্বের এমন একজনের সঙ্গে মেলামেশা করাটা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। অনুতাপ আর ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে গেটস কি পারবেন তার উজ্জ্বল ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে? উত্তরটা সময়ের হাতে তোলা থাকল, তবে মেলিন্ডার তোলা প্রশ্নগুলো যে সহসাই মিটে যাচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য।