বলিউডের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের দাম্পত্য জীবনের ১৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া এই পথচলা আজও ভক্তদের কাছে এক রূপকথার মতো। প্রতি বছর তাঁদের বিবাহবার্ষিকী এলেই অবধারিতভাবে আলোচনায় উঠে আসে বিয়ের সেই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন এবং ঐশ্বরিয়ার নজরকাড়া সাজগোজ।
নিচে তাঁদের বিয়ের বিশেষ কিছু দিক এবং সেই আলোচিত শাড়ির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো :

৯০ লাখ টাকার সেই স্বর্ণখচিত শাড়ি
ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বিয়ের প্রধান আকর্ষণ ছিল তাঁর পরনের কাঞ্জিভরম শাড়িটি। প্রখ্যাত ডিজাইনার নীতা লুল্লার তৈরি করা এই হলুদ-সোনালি শাড়িটি সাধারণ কোনো পোশাক ছিল না। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল আসল সোনা ও দামি হীরা। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই শাড়িটির মূল্য ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা, যা আজও বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ব্রাইডাল পোশাক হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোটি টাকার গয়না ও উপহার
সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী তাঁর বিয়ের দিন সেজেছিলেন সোনা ও হীরার ভারী ঐতিহ্যবাহী গয়নায়। এর পাশাপাশি অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের দেওয়া বিশেষ ‘মঙ্গলসূত্র’টিও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। শোনা যায়, সেই মঙ্গলসূত্রটির দামও ছিল কয়েক কোটি টাকা সমপর্যায়ের।
নিউইয়র্কের বারান্দা থেকে বিয়ের প্রস্তাব
অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার প্রেমের শুরুটা হয়েছিল ‘উমরাও জান’ ছবির সেটে। তবে সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি পায় নিউইয়র্কে। অভিষেক নিজেই জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের একটি হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি ঐশ্বরিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে তাঁদের অভিনীত ‘গুরু’ সিনেমাটি সুপারহিট হওয়ার পরপরই তাঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।
১৯ বছরের চড়াই-উতরাই
২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল বচ্চন পরিবারের জুহুর বাসভবনে কঠোর নিরাপত্তায় এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০১১ সালে তাঁদের কোল আলো করে আসে কন্যা আরাধ্যা বচ্চন। মাঝেমধ্যে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ডালপালা মেললেও, অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া বারবার একসঙ্গে জনসমক্ষে এসে প্রমাণ করেছেন যে তাঁদের বন্ধন এখনো অটুট।
আভিজাত্য, ঐতিহ্য আর ভালোবাসার মিশেল
ঐশ্বরিয়া ও অভিষেকের বিয়ে কেবল একটি সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল বলিউডের দুই প্রভাবশালী পরিবারের মিলনের এক মহোৎসব। ১৯ বছর পরেও ঐশ্বরিয়ার সেই জাঁকজমকপূর্ণ সাজ এবং তাঁদের প্রেমকাহিনী নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। আভিজাত্য, ঐতিহ্য আর ভালোবাসার মিশেলে এই জুটি আজও বলিউডের রাজকীয় ঐতিহ্যের ধারক।