প্রযুক্তি বিশ্বে চীনের জয়যাত্রা এখন আর শুধু ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা নেমে এসেছে খেলার মাঠেও। সম্প্রতি বেইজিং হাফ ম্যারাথনে একটি হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবট ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মানুষের গড়া বিশ্বরেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
নিচে এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো :

মানুষের রেকর্ডের চেয়েও দ্রুত
এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অনার (Honor)-এর তৈরি এই রোবটটি ২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথন শেষ করেছে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে। যেখানে গত মার্চে লিসবন রোড রেসে উগান্ডার অ্যাথলেট জ্যাকব কিপলিমো একই দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় নিয়েছিলেন প্রায় ৫৭ মিনিট। অর্থাৎ, রোবটটি মানুষের গড়া রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৭ মিনিট আগেই গন্তব্যে পৌঁছেছে।
প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতি
গত বছরের তুলনায় এ বছর রোবট প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
- ২০২৫ বনাম ২০২৬: গত বছর বিজয়ী রোবট সময় নিয়েছিল ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ৪২ সেকেন্ড। এক বছরের ব্যবধানে এই সময় কমিয়ে ৫০ মিনিটে নামিয়ে আনা প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির প্রমাণ।
- শারীরিক গঠন: রোবটটির পা প্রায় ৯৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং এতে উন্নত লিকুইড-কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘক্ষণ দৌড়ানোর সময় যন্ত্রের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
স্বয়ংক্রিয় বনাম রিমোট কন্ট্রোলড
প্রতিযোগিতায় দুই ধরনের রোবট অংশ নিয়েছিল:
- স্বয়ংক্রিয় (Autonomous): ৪০ শতাংশ রোবট নিজেদের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দৌড় শেষ করেছে। ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে এরাই চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছে।
- রিমোট কন্ট্রোলড: ৬০ শতাংশ রোবট দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ছিল। অনারের একটি রিমোট কন্ট্রোলড রোবট আরও দ্রুত সময়ে (৪৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড) দৌড় শেষ করলেও নিয়ম অনুযায়ী সেটি মূল বিজয়ী হতে পারেনি।
ভূ-রাজনীতি ও প্রযুক্তির লড়াই
চীনে প্রযুক্তি এখন কেবল উদ্ভাবন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচিত। দেশটির নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় (২০২৬–২০৩০) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোবট দৌড়ের এই সাফল্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশের সাথে চীনের প্রযুক্তির লড়াইয়েরই একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।
উপসংহার
রোবটের এই জয় শুধু গতির লড়াই নয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যান্ত্রিক প্রকৌশলের এক নতুন যুগের সূচনা। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কেবল ম্যারাথনেই নয়, বরং কলকারখানা থেকে শুরু করে উদ্ধারকাজেও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তবে মানুষের আবেগ আর পরিশ্রমের কাছে রোবটের এই যান্ত্রিক গতি কতটা টিকে থাকবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।